Verse 1: “আমি আমার চোখের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছি| এমন দৃষ্টি দিয়ে আমি কোন মেয়েকে দেখবো না য়ে দৃষ্টি আমার কামলালসাকে চরিতার্থ করবার জন্য ঐ মেয়েকে পেতে আমায় বাধ্য করবে|
Verse 2: উচেচর ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, মানুষের জন্য কি করেন? উচেচর ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, মানুষকে কি দেন?
Verse 3: মন্দ লোকদের জন্য ঈশ্বর সমস্যা ও ধ্বংস প্রেরণ করেন এবং যারা মন্দ কাজ করে তাদের জন্য পাঠান বিপর্য়য|
Verse 4: আমি যা করি ঈশ্বর সবই জানেন এবং তিনি আমার প্রতিটি পদক্ষেপ লক্ষ্য করেন|
Verse 5: “আমি মানুষকে মিথ্যা বলিনি ও তাদের প্রতারিত করতে চাইনি!
Verse 6: ঈশ্বর যদি যথায়থ মানদণ্ডও ব্যবহার করেন, তিনি দেখবেন আমি নির্দোষ|
Verse 7: যদি আমার পদক্ষেপ যথার্থ পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়ে থাকে, যদি আমার চোখ আমায় মন্দ কাজ করতে পরিচালিত করে থাকে, যদি আমার হস্তদ্বয পাপে কলঙ্কিত হয়ে থাকে,
Verse 8: তাহলে, আমার চাষের ফসল য়েন অন্যরা খায় এবং আমার চাষের ফসল য়েন তারা তোলে|
Verse 9: “যদি আমি কখনো অন্য কোন নারীকে কামনা করে থাকি বা আমার প্রতিবেশীর দরজায তার স্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করে থাকি,
Verse 10: তাহলে আমার স্ত্রী য়েন অন্য পুরুষের জন্য রান্না করে এবং অন্য পুরুষরা য়েন তার সঙ্গে শয়ন করে|
Verse 11: কেন? কারণ য়ৌনপাপ হল লজ্জাকর| এটা শাস্তিযোগ্য পাপ|
Verse 12: য়ৌনপাপ হল এমন এক আগুন যা সবকিছু ধ্বংস হওয়া পর্য়ন্ত জ্বলতে থাকে| আমি সারা জীবন যা করেছি এটা তা ধ্বংস করে দিতে পারে|
Verse 13: “যখন আমার বিরুদ্ধে আমার ক্রীতদাসরা অভিয়োগ করেছিল তখন আমি যদি তাদের প্রতি ন্যায়বিচার না করে থাকি,
Verse 14: তাহলে ঈশ্বরের মুখোমুখি হয়ে আমি কি করবো? যখন ঈশ্বর জিজ্ঞাসা করবেন আমি কি করেছি, তখন আমি কি বলবো?
Verse 15: প্রত্যেকে তার মায়ের গর্ভে জন্মায়| আমি আমার মায়ের গর্ভে জন্মেছি, আমার এীতদাসরা তাদের মায়ের গর্ভে| অতএব সেই দিক থেকে আমাতে আর আমার এীতদাসদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই|
Verse 16: “দরিদ্র লোকদের সাহায্য করতে আমি কখনও বিমুখ ছিলাম না| আমি বিধ্বাদের সাহায্য করতে কখনো অস্বীকার করিনি|
Verse 17: খাদ্যের বিষয়ে আমি কখনও স্বার্থপর হইনি| আমি সর্বদাই অনাথদের খাবার দিয়েছি|
Verse 18: আমার সারা জীবন ধরে আমি পিতৃীন সন্তানদের পিতার মত ছিলাম| আমার সারা জীবন ধরে আমি বিধ্বাদের সাহায্য করেছি|
Verse 19: আমি যখনই বস্ত্রহীন মানুষকে, দরিদ্র মানুষকে, জামার অভাবে কষ্ট পেতে দেখেছি,
Verse 20: আমি সর্বদাই তাদের বস্ত্র দিয়েছি| ওদের উষ্ণ রাখার জন্য আমার নিজের ভেড়া থেকে আমি পশম দিয়েছি| এবং ওরা ওদের সমস্ত হৃদয় দিয়ে আমায় আশীর্বাদ করেছে|
Verse 21: যদিও আমি জানতাম য়ে আমি আদালতের সমর্থন পাবো, তবু আমি কখনো অনাথদের ভয় দেখাই নি|
Verse 22: আমি যদি কখনও তা করে থাকি, তাহলে আমার বাহু কাঁধ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যাবে|
Verse 23: আমি ঈশ্বরের শাস্তিকে ভয় পাই| তিনি যখন উঠে দাঁড়ান আমি তাঁর সামনে দাঁড়াতে পারি না|
Verse 24: “আমি আমার সম্পদের ওপর কখনই ভরসা করি নি| ঈশ্বর আমায় সাহায্য করবেন এটাই আমার বড় ভরসা| খাঁটি সোনাকেও আমি কখনও বলি নি, ‘তুমিই আমার ভরসা|’
Verse 25: আমি বিত্তবান ছিলাম| কিন্তু তা আমাকে অহঙ্কারী করে নি| আমি অনেক ধনসম্পদ উপার্জন করেছি| কিন্তু অর্থ আমাকে সুখী করে নি|
Verse 26: আমি কখনও উজ্জ্বল সূর্য় বা সুন্দর চাঁদের পূজো করি নি|
Verse 27: চাঁদ ও সূর্য়কে পূজো করার মতো অতখানি বোকা আমি ছিলাম না|
Verse 28: ওটাও শাস্তিযোগ্য পাপ| যদি আমি ওইগুলোর পূজো করতাম তাহলে আমি উচেচ অবস্থিত ঈশ্বর সর্বশক্তিমানের প্রতি অবিশ্বস্ততার কাজ করতাম|
Verse 29: “আমার শএুরা যখন ধ্বংসপ্রাপ্ত হল আমি কখনই সুখী হই নি| যখন আমার শএুদের জীবনে অঘটন ঘটেছে, তখন আমি তাদের প্রতি কখনও উপহাস করিনি|
Verse 30: আমার শএুদের অভিশাপ দিয়ে বা তাদের মৃত্যু কামনা করে আমি কখনও নিজের মুখকে পাপ করতে দিই নি|
Verse 31: আমার তাঁবুর প্রত্যেকেই জানে য়ে আমি সর্বদাই আমার অতিথিদের য়থেষ্ট খাদ্য দিয়েছি|
Verse 32: আমি সর্বদাই ভবঘুরেদের আমার ঘরে ডেকে এনেছি যাতে ওদের রাস্তায় ঘুমাতে না হয়|
Verse 33: অন্য লোকরা তাদের পাপ গোপন করার চেষ্টা করে| কিন্তু আমি আমার অপরাধ গোপন করি নি|
Verse 34: লোকে কি বলতে পারে সে নিয়ে আমি কোন দিনই ভীত হই নি| সেই ভয় কোন দিন আমাকে চুপ করাতে পারে নি| আমি কোন দিনই বাইরে য়েতে দ্বিধাবোধ করি নি| আমি লোকের ঘৃণায কোন দিন বিচলিত হইনি|
Verse 35: “এই য়ে, আমি চাই কেউ আমার কথা শুনুক! এই রইল আমার স্বাক্ষর আমার অভিয়োগের ওপর| এখন ঈশ্বর সর্বশক্তিমান য়েন আমায় একটা আধিকারিকী উত্তর দেন| আমি চাই, তাঁর মতে আমি যা ভুল করেছি, তা তিনি লিখে ফেলুন|
Verse 36: তারপর আমি সেটা কাঁধে পরে নেব| মাথার মুকুটের মত আমি তা ধারণ করবো|
Verse 37: যদি ঈশ্বর তা করতেন, তাহলে আমিও আমার সব কাজের ব্যাখ্যা দিতে পারতাম| আমি এক জন রাজপুত্রের মত তাঁর কাছে য়েতে পারতাম|
Verse 38: “আমার জমি আমি কারও কাছ থেকে চুরি করি নি| কেউ আমার সম্পর্কে চুরির অভিয়োগ তুলতে পারবে না|
Verse 39: জমি থেকে য়ে খাদ্য আমি পেয়েছিলাম তার জন্য আমি আমার কৃষককে মূল্য দিয়েছিলাম|আমি কখনো জমির ভাড়াটেদের সঙ্গে দুর্য়্ববহার করিনি|
Verse 40: যদি আমি কখনও এই সব মন্দ কাজ করে থাকি, তাহলে আমার জমিতে গম এবং বার্লির বদলে য়েন কাঁটা-ঝোপ ও দুর্গন্ধ লতাপাতা জন্মায়!” ইয়োবের কথা শেষ হল|