Verse 1: প্রভু মোশিকে বললেন,
Verse 2: “হারোণ ও তার পুত্রদের সঙ্গে নাও| সেই সঙ্গে নাও পোশাক-পরিচ্ছদ, অভিষেকের জন্য তেল, পাপমোচনের নৈবেদ্যর ষাঁড়, দুটি পুরুষ মেষ এবং খামিরবিহীন রুটির ঝুড়ি|
Verse 3: তারপর লোকদের একসঙ্গে সমাগম তাঁবুর প্রবেশ মুখে নিয়ে এসো|”
Verse 4: প্রভুর আদেশ মতই মোশি সব কাজ করল| লোকরা সমাগম তাঁবুর প্রবেশ মুখে একসঙ্গে দেখা করল|
Verse 5: তখন মোশি লোকদের বলল, “প্রভু ইস্রায়েলে আদেশ করেছেন এ হল তাই এবং তা অবশ্য কর্তব্য|”
Verse 6: তারপর মোশি হারোণ ও তার পুত্রদের নিয়ে এল| জল দিয়ে সে তাদের ধৌত করল|
Verse 7: এরপর মোশি হারোণকে বোনা অঙ্গরক্ষিণী পরালো এবং তার কোমরের চারপাশে কটিবন্ধ জড়াল| তারপর মোশি হারোণের গায়ে পোশাক পরিযে গায়ে এফোদ জড়াল এবং বোনা পটুকাতে গা বেষ্টন করে তা বাঁধল| এইভাবে মোশি হারোণের গায়ে এফোদ পরাল|
Verse 8: মোশি হারোণের বুকে বক্ষাবরণ পরিযে দিল| তারপর সে বক্ষাবরণের ভেতরে উরীম ও তূম্মীম রাখল|
Verse 9: মোশি হারোণের মাথা লম্বা কাপড় জড়ানো পাগড়ি দিয়ে ঢেকে দিল| এক টুকরো সোনা পাগড়ির সামনেটায বসিযে দিল| এই সোনার টুকরোটা হল পবিত্র মুকুট| প্রভুর আজ্ঞা মতই মোশি এটা করেছিল|
Verse 10: এরপর মোশি অভিষেকের তেল নিল এবং পবিত্র তাঁবুর ওপর ও তার মধ্যেকার সমস্ত জিনিসের ওপর তা ছিটিয়ে দিল| এইভাবে মোশি তাদের পবিত্র করল|
Verse 11: মোশি বেদীর ওপর ঐ তেলের কিছুটা সাতবার ছিটিয়ে দিল| মোশি বেদীর ওপর এবং তত্সংলগ্ন থালা, গামলায এবং তার তলদেশে তেল ছিটিয়ে সব কিছুকে পবিত্র করল|
Verse 12: তারপর কিছুটা অভিষেকের তেল নিয়ে সে হারোণের মাথায় ঢালল, এইভাবে মোশি হারোণকে পবিত্র করল|
Verse 13: মোশি এরপর হারোণের পুত্রদের নিয়ে এসে তাদের বোনা অঙ্গরক্ষিণী পরাল| পরে তাদের গায়ে কটিবন্ধ জড়িয়ে দিল| তারপর তাদের মাথায় ফেট্টি বাঁধল| প্রভুর আজ্ঞামতই মোশি এসব করল|
Verse 14: এরপর মোশি পাপ মোচন নৈবেদ্যর ষাঁড়টিকে নিয়ে এল| পাপ মোচন নৈবেদ্যর ষাঁড়ের মাথার ওপর হারোণ ও তার পুত্ররা হাত রাখল|
Verse 15: তারপর মোশি ষাঁড়টিকে হত্যা করে তার রক্ত সংগ্রহ করল| মোশি তার আঙুল দিয়ে কিছু রক্ত বেদীর সব কোণে লাগাল| এইভাবে মোশি বেদীটিকে বলির উপয়োগী করে তৈরী করল| তারপর সে বেদীর মেঝেয রক্ত ঢেলে দিল| লোকদের পাপ মুক্ত করার জন্য এইভাবে মোশি বেদীটিকে বলির জন্য তৈরী রাখল|
Verse 16: সে য়কৃত্ থেকে সব চর্বি বের করে নিল এবং সেই সঙ্গে দুটি বৃক্ক ও তাদের ওপরকার সব চর্বিটুকু নিয়ে সেই বেদীর ওপর তাদের পোড়াল|
Verse 17: কিন্তু মোশি ষাঁড়ের চামড়া, তার মাংস এবং শরীরের বর্য়্জ পদার্থকে তাঁবুর বাইরে নিয়ে এল| তাঁবুর বাইরে আগুনে মোশি সেগুলিকে পোড়াল| প্রভুর আজ্ঞামতই মোশি এসব করল|
Verse 18: এরপর মোশি হোমবলির জন্য পুরুষ মেষকে নিয়ে এল| হারোণ এবং তার পুত্ররা সেই পুরুষ মেষের মাথায় তাদের হাত রাখল|
Verse 19: মোশি তারপর পুরুষ মেষটিকে হত্যা করল| সে বেদীর চারপাশে ও বেদীর ওপরে পুরুষ মেষটির রক্ত ছিটিয়ে দিল|
Verse 20: মোশি পুরুষ মেষটিকে টুকরো টুকরো করে কাটল| সে ভিতরের অংশগুলি ও পা জল দিয়ে ধুয়ে দিল, তারপর বেদীর ওপর গোটা পুরুষ মেষটিকে পোড়াল| মোশি মাথা ও শরীরের টুকরোগুলো এবং চর্বি পোড়াল|
Verse 21: এ হল আগুনের তৈরী হোমবলি| এর গন্ধ প্রভুকে খুশী করে| প্রভুর আজ্ঞামত মোশি ঐগুলি করল|
Verse 22: তারপর মোশি অন্য পুরুষ মেষটিকে নিয়ে এল| হারোণ আর তার পুত্রদের যাজক হিসাবে নির্দিষ্ট করার জন্যই এই পুরুষ মেষটি ব্যবহার করা হয়েছিল| তারা এই পুরুষ মেষটির মাথায় তাদের হাত রেখেছিল|
Verse 23: এরপর মোশি পুরুষ মেষটিকে হত্যা করল| এর কিছুটা রক্ত সে হারোণের কানের লতিতে, তার ডান হাতের বুড়ো আঙুলে এবং হারোণের ডান পাযের বুড়ো আঙুলের মাথায় ছোঁযাল|
Verse 24: তারপর সে হারোণের পুত্রদের বেদীর কাছাকাছি নিয়ে এল| রক্তের কিছুটা তাদের ডান কানের লতিতে, ডান হাতের বুড়ো আঙুলে এবং ডান পাযের বুড়ো আঙুলের মাথায় লাগিয়ে দিল| এরপর সে বেদীর চারপাশে রক্ত ছিযিে দিল|
Verse 25: এরপর মোশি চর্বি, লেজ, ভিতরের সমস্ত অংশগুলোর চর্বি, য়কৃত্ ঢাকা চর্বি, বৃক্ক দুটি এবং তাদের চর্বি এবং ডান দিকের উরু নিল|
Verse 26: প্রত্যেকদিন প্রভুর সামনে এক ঝুড়ি ভর্ত্তি খামিরবিহীন রুটি রাখা হত| মোশি এই রুটিগুলির একটি, তেল মাখানো রুটির একটি ও একটি খামিরবিহীন পাতলা রুটি নিল| সেই সব রুটির টুকরোগুলো মোশি চর্বির ওপর এবং পুরুষ মেষের ডান উরুর ওপর রাখল|
Verse 27: তারপর মোশি সেই সমস্ত কিছু হারোণ ও তার পুত্রদের হাতে দিয়ে দিল| টুকরোগুলোকে মোশি দোলনীয় নৈবেদ্যরূপে প্রভুর সামনে দোলালো|
Verse 28: তারপর হারোণ ও তার পুত্রদের হাত থেকে সেগুলিকে নিয়ে মোশি বেদীর হোমবলির ওপর পোড়াল| হারোণ ও তার পুত্রদের যাজক হিসাবে নিয়োগ করার জন্যই এই নৈবেদ্য| এ নৈবেদ্য আগুনের দ্বারা তৈরী নৈবেদ্য| এর গন্ধ প্রভুকে খুশী করে|
Verse 29: মোশি বক্ষদেশটা নিয়ে প্রভুর সামনে তা দোলনীয় নৈবেদ্য হিসেবে দোলাল| যাজকদের নিয়োগ করার ব্যাপারে পুরুষ মেষের এই অংশ হল মোশির অংশ| মোশি প্রভুর আজ্ঞামতই এসব কাজ করল|
Verse 30: মোশি বেদীর ওপর পড়ে থাকা অভিষেকের তেলের কিছুটা ও কিছুটা রক্ত নিয়ে হারোণের ওপর এবং হারোণের পোশাকের ওপর ছিযিে দিল| হারোণের সঙ্গে সেবারত ছেলেদের এবং তাদের পোশাকের ওপরেও কিছুটা ছিটিয়ে দিল| এইভাবে মোশি হারোণ, তার কাপড়-চোপড়, তার ছেলেদের এবং ছেলেদের কাপড়-চোপড় শুচিশুদ্ধ করল|
Verse 31: তারপর মোশি হারোণ ও তার পুত্রদের জিজ্ঞাসা করল, “আমার আদেশ তোমাদের মনে পড়ে তো? আমি বলেছিলাম, ‘হারোণ এবং তার পুত্ররা এই সমস্ত জিনিস অবশ্যই আহার করবে|’ সুতরাং যাজক নির্বাচনের অনুষ্ঠান থেকে রুটির ঝুড়ি আর মাংস নিয়ে নাও| সমাগম তাঁবুর প্রবেশ মুখে মাংসটাকে সিদ্ধ করো| সেই খানেই মাংস আর রুটি খেও| আমি ইস্রায়েলে বলছি সেইমতো এটা করো|
Verse 32: যদি মাংস বা রুটির কোন কিছু পড়ে থাকে তবে তা পুড়িয়ে ফেল|
Verse 33: যাজক নির্বাচনের অনুষ্ঠান চলবে সাতদিন ধরে| সেই অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্য়ন্ত তোমরা অবশ্যই সমাগম তাঁবুর প্রবেশ পথ ছাড়বে না|
Verse 34: আজ ইস্রায়েলে করা হল, প্রভু সেইসব করতেই আজ্ঞা দিয়েছেন| তোমাদের শুচি করতেই তিনি এই সব আজ্ঞা দিয়েছেন|
Verse 35: তোমরা অবশ্যই সমাগম তাঁবুর প্রবেশ মুখে সাতদিন ধরে দিনরাত থাকবে| যদি তোমরা প্রভুর আজ্ঞা না মানো তাহলে তোমরা মারা ইস্রায়েলেবে| প্রভু আমাকে এইসব আজ্ঞা দিয়েছেন|”
Verse 36: তাই হারোণ ও তার পুত্ররা প্রভু মোশিকে ইস্রায়েলে ইস্রায়েলে করতে আজ্ঞা দিয়েছিলেন সেসবই করল|