Verse 1: যাকোবও সেই স্থান হতে উঠে চলল| পথে সে ঈশ্বরের দূতগণের দেখা পেল|
Verse 2: তাদের দেখে যাকোব বলল, “এ ঈশ্বরের শিবির!” সেই জন্যে সে সেই স্থানের নাম মহনযিম রাখল|
Verse 3: যাকোবের ভাই এষৌ থাকত সেযীরে| এই জায়গাটা ছিল পাহাড়ী দেশ ইদোমে| যাকোব এষৌর কাছে বার্তাবাহকদের এই বলে পাঠাল,
Verse 4: “এই সব কথা আমার মনিব এষৌকে গিয়ে বলো| আপনার দাস যাকোব বলে: আমি এতগুলি বছর লাবনের কাছে কাটিযেছি|
Verse 5: আমার অনেক গরু, গাধা, মেষপাল, লোকজন ও দাসী রয়েছে| মহাশয় আমি এই বার্তা পাঠিয়ে অনুরোধ করছি, আপনি আমাদের গ্রহণ করুন|”
Verse 6: বার্তাবাহকরা যাকোবের কাছে ফিরে এসে বলল, “আমরা আপনার ভাই এষৌযের কাছে গিয়েছিলাম| তিনি আপনার সাথে দেখা করতে আসছেন| তাঁর সাথে 400 জন লোক রয়েছে|”
Verse 7: এই বার্তায যাকোব ভীত হল| সে তার লোকজনদের দুই দলে ভাগ করল| সে তার মেষপাল, পশুপাল ও উটের পালকে দুই ভাগে ভাগ করল|
Verse 8: যাকোব বলল, “যদি এষৌ এসে এক দলকে ধ্বংস করে তবে অপর দল নিশ্চয় পালিয়ে রক্ষা পাবে|”
Verse 9: যাকোব বলল, “হে আমার পিতা অব্রাহামের ঈশ্বর, আমার পিতা ইসহাকের ঈশ্বর! প্রভু তুমিই আমাকে আমার দেশে আমার পরিবারের কাছে ফিরে য়েতে বলেছিলে| তুমি বলেছিলে আমার মঙ্গল করবে|
Verse 10: তুমি আমার প্রতি কত করুণা করেছ| আমার কত মঙ্গল করেছ| প্রথমবার যখন আমি য়র্দ্দন পার হচ্ছিলাম তখন কেবল পথ চলার লাঠি ছাড়া আমার কাছে কিছুই ছিল না| কিন্তু এখন আমার সব কিছু প্রচুর বলে দুটো দল হয়েছে|
Verse 11: দয়া করে আমায় আমার ভাইয়ের হাত থেকে, এষৌর হাত থেকে রক্ষা কর| আমার ভয় হয় য়ে সে আমাদের, এমনকি সন্তানদের সঙ্গে মাযেদেরও হত্যা করবে|
Verse 12: প্রভু তুমি আমায় বলেছিলে, ‘আমি তোমার মঙ্গল করব| আমি তোমার বংশধরদের সংখ্যায় সমুদ্রের বালির মত করব যা গুনে শেষ করা যায় না|”
Verse 13: সেই স্থানে যাকোব রাত কাটাল| এষৌকে উপহার হিসাবে দেবার জন্য জিনিস গোছাল|
Verse 14: যাকোব 200 টি ছাগী, 20 টি ছাগ, 200 টি মেষী ও 20 টি মেষ নিল|
Verse 15: আরও নিল 30 টি উট এবং তাদের বাচ্চা, 40 টি গরু, 10 টি ষাঁড়, 20 টি গর্দ্দভী ও 10 টি গর্দ্দভ|
Verse 16: যাকোব প্রতিটি পশুপাল তার দাসদের হাতে দিল| তারপর যাকোব তার দাসদের বলল, “প্রতিটি পশুর পাল পৃথক কর| আমার আগে আগে যাও আর প্রতিটি পালের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব রেখো|
Verse 17: যাকোব তার দাসদের আজ্ঞা দিল| প্রথম দলের পশু য়ে দাসের হাতে তাকে সে বলল, “যখন আমার ভাই এষৌ এসে তোমাকে জিজ্ঞেস করবে, ‘এ সব পশু কার? তুমি কোথায় যাচ্ছ? তুমি কার দাস?’
Verse 18: তখন তুমি বলবে, ‘এইসব পশু আপনার দাস যাকোবের| যাকোবই এইসব উপহার হিসাবে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন. আর যাকোব নিজেও পেছন পেছন আসছেন|”
Verse 19: যাকোব দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং অন্য সব দাসদের ঐ একই কাজ করতে বলল| সে বলল, “এষৌর সঙ্গে দেখা হলে তোমরাও সবাই ঐ একই কাজ করবে|
Verse 20: তোমরা বলবে, “এই উপহার আপনার জন্যে আর আপনার দাস যাকোব আমাদের পেছনেই আসছেন|” যাকোব বলল, “যদি আমি এই লোকদের উপহার সমেত আমার আগে পাঠাই তবে হয়তো এষৌ আমায় ক্ষমা করে গ্রহণ করবেন|”
Verse 21: তাই যাকোব এষৌকে উপহারগুলি পাঠাল| কিন্তু সেই রাতে যাকোব তাঁবুতে রইল|
Verse 22: পরে সেই রাতে উঠে যাকোব সেখান থেকে চলে গেল| সে তার সাথে তার দুই স্ত্রী, দুই দাসী ও তার এগারোটি সন্তানকে নিয়ে য়ব্বোক নদী পার হল|
Verse 23: যাকোবের পরিবার নদী পার হয়ে গেলে সে তার সমস্ত জিনিসপত্রও পার হবার জন্য পাঠাল|
Verse 24: অবশেষে যাকোব নদী পার হবার জন্য রইল| কিন্তু সে একা পার হবার আগে একজন পুরুষ এসে তার সঙ্গে মল্লয়ুদ্ধ করল| সূর্য় ওঠার আগে পর্য্ন্ত সেই পুরুষটি তার সঙ্গে য়ুদ্ধ করলেন|
Verse 25: পুরুষটি যখন দেখলেন তিনি যাকোবকে পরাজিত করতে পারছেন না তখন যাকোবের পাযে আঘাত করলেন; তাতে যাকোরে পাযের হাড় সরে গেল|
Verse 26: তারপর সেই পুরুষটি যাকোবকে বললেন, “আমায় য়েতে দাও, সূর্য় উঠছে|”কিন্তু যাকোব বলল, “আপনি আমাকে আশীর্বাদ না করলে আমি আপনাকে য়েতে দেব না|”
Verse 27: সেই পুরুষটি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার নাম কি?”যাকোব উত্তর দিল, “আমার নাম যাকোব|”
Verse 28: তখন সেই পুরুষটি বললেন, “তোমার নাম যাকোবের পরিবর্তে ইস্রায়েল হবে| আমি তোমার এই নাম রাখলাম কারণ তুমি ঈশ্বরের সঙ্গে ও মানুষের সঙ্গে য়ুদ্ধ করেছ কিন্তু পরাজিত হও নি|”
Verse 29: তখন যাকোব তাকে জিজ্ঞেস করল, “দয়া করে বলুন আপনার নাম কি?”কিন্তু সেই পুরুষটি বললেন, “কি জন্য আমার নাম জিজ্ঞেস করছ?” সেই সময়ই পুরুষটি যাকোবকে আশীর্বাদ করলেন|
Verse 30: তাই যাকোব সেই জায়গার নাম পনূয়েল রাখল| যাকোব বলল, “এই স্থানেই আমি ঈশ্বরকে মুখোমুখি দেখলাম কিন্তু তাও প্রাণে বাঁচলাম|”
Verse 31: সে পনূয়েল পার হলে সূর্য় উঠল| যাকোব পায়ের জন্য খোঁড়াতে খোঁড়াতে চলল|
Verse 32: সেইজন্য আজও ইস্রায়েলীয়রা উরুসন্ধির পেশী ভোজন করে না, কারণ যাকোবের সেই পেশীই আহত হয়েছিল|