Verse 1: কৈসরিয়ায় কর্ণীলিয়া নামে একজন লোক ছিলেন; ইনি ছিলেন ‘ইতালীয়’ বাহিনীর একজন সেনাপতি৷
Verse 2: তিনি ছিলেন ঈশ্বর ভক্ত, তাঁর গৃহস্থ সমস্ত পরিজন সত্যময় ঈশ্বরের উপাসনা করত৷ তিনি ইহুদীদের মধ্যে গরীব দুঃখীদের অর্থ দিতেন আর সবসময়ই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানাতেন৷
Verse 3: একদিন প্রায় তিনটের সময় এক দর্শনের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট দেখতে পেলেন য়ে ঈশ্বরের এক দূত তাঁর কাছে এসে বলছেন, ‘কর্ণীলিয়!’
Verse 4: কর্ণীলিয় স্বর্গদূতের দিকে চেয়ে ভয় পেয়ে বললেন, ‘মহাশয়, আপনি কি চান?’সেই স্বর্গদূত তাঁকে বললেন, ‘কর্ণীলিয় তোমার প্রার্থনা ঈশ্বর শুনেছেন; গরীবদের তুমি য়ে সাহায্য কর, তা তিনি দেখেছেন৷ ঈশ্বর তোমায় স্মরণ করেছেন৷
Verse 5: তুমি যাফো শহরে লোকদের পাঠাও, সেখানে শিমোন নামে একজন লোক আছে, যার অপর নাম পিতর, তোমার লোকেরা সেখানে গিয়ে তাকে এখানে নিয়ে আসুক৷
Verse 6: সে চামড়ার ব্যবসাযী শিমোনের বাড়িতে আছে, সেই বাড়ি সমুদ্রের ধারে৷’
Verse 7: স্বর্গদূত কথা বলে চলে গেলে পরে কর্ণীলিয় দুজন কর্মচারীকে ও একজন সৈনিককে ডেকে পাঠালেন৷ ঈশ্বরভক্ত এই সৈনিকটি কাজে সাহায্য করার ব্যাপারে সব সময়ই কর্ণীলিয়র কাছে কাছে থাকত৷
Verse 8: এই তিন ব্যক্তির কাছে কর্ণীলিয় সব কিছু বুঝিয়ে তাদের যাফোতে পাঠালেন৷
Verse 9: পরের দিন তারা যখন যাফোর কাছাকাছি পৌঁছলো৷ সেই সময়ে পিতর প্রার্থনা করার জন্য ছাদের উপর উঠে ছিলেন৷ বেলা তখন ভর দুপুর৷
Verse 10: পিতরের খিদে পেল এবং তিনি খেতে চাইলেন৷ নীচে লোকেরা তখন পিতরের জন্য খাবার প্রস্তুত করছে, এমন সময় তিনি আবিষ্ট হলেন৷
Verse 11: তিনি দেখলেন আকাশ মুক্ত হয়েছে আর একটা কিছু নেমে আসছে৷ সেটা দেখতে একটা বড় চাদরের মত, তার চারটে খুঁট ধরে কেউ য়েন তা মাটিতে নামিয়ে দিচ্ছে৷
Verse 12: তার মধ্যে পৃথিবীর সব রকমের পশু ও সরীসৃপ এবং আকাশের নানা রকমের পক্ষী রয়েছে৷
Verse 13: এরপর সেই রব পিতরকে বলল, ‘পিতর ওঠ, মার ও খাও৷’
Verse 14: পিতর বললেন, ‘প্রভু কখনই না! কারণ আমি কখনও কোন অশুদ্ধ বা অপবিত্র কিছু খাই নি৷’
Verse 15: তখন আবার এই রব শোনা গেল, ‘ঈশ্বর যা শুদ্ধ করেছেন তা তুমি ‘অশুদ্ধ’ বোলো না!’
Verse 16: এইভাবে তিন বার ঘটে যাবার পর সেই চাদরটি আকাশে তুলে নেওয়া হল৷
Verse 17: পিতর য়ে দর্শন পেয়েছিলেন তার অর্থ কি হতে পারে তা যখন তিনি মনে মনে চিন্তা করছেন, সেই সময় কর্ণীলিয়াসের পাঠানো ঐ লোকেরা শিমোনের বাড়ির খোঁজ করতে করতে বাড়ির ফটকে এসে হাজির হল৷
Verse 18: তারা জিজ্ঞেস করল, ‘শিমোন যাকে পিতর বলে তিনি কি এ বাড়িতে রয়েছেন?’
Verse 19: পিতর তখনও সেই দর্শনের বিষয়ে চিন্তা করছেন, তখন আত্মা তাঁকে বললেন, ‘দেখ! তিন জন লোক তোমার খোঁজ করছে৷
Verse 20: তুমি উঠে নীচে যাও, বিনা দ্বিধায় তাদের সঙ্গে যাও, কারণ আমিই তাদের পাঠিয়েছি৷’
Verse 21: তখন পিতর নীচে গিয়ে সেই লোকদের বললেন, ‘দেখুন, আপনারা যাকে খুঁজছেন, আমিই সেই লোক৷ আপনারা এখানে কেন এসেছেন?’
Verse 22: তারা বলল, ‘আমরা সেনাপতি কর্ণীলিয়াসের কাছ থেকে এসেছি৷ তিনি একজন ধার্মিক লোক, তিনি ঈশ্বরের উপাসনা করেন৷ ইহুদীদের কাছেও তিনি শ্রদ্ধার পাত্র৷ স্বর্গদূত কর্ণীলিয়াসকে নির্দেশ দিয়েছেন য়েন আপনাকে তাঁর বাড়ীতে আসতে আমন্ত্রণ দেওয়া হয়৷ আপনি কি বলবেন তা য়েন তিনি শুনতে পান৷’
Verse 23: তখন পিতর তাদের ভেতরে নিয়ে গিয়ে রাতটা তাঁর ওখানে থাকার ব্যবস্থা করলেন৷পর দিন পিতর প্রস্তুত হয়ে সেই লোকদের সঙ্গে রওনা হয়ে গেলেন৷ যাফো থেকে কয়েকজন বিশ্বাসী ভাইও পিতরের সঙ্গে গেলেন৷
Verse 24: পরের দিন তাঁরা কৈসরিয়া শহরে এলেন৷ কর্ণীলিয়া তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তিনি তাঁর আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের তাঁর বাড়িতে ডেকেছিলেন৷
Verse 25: পিতর যখন ভেতরে গেলেন তখন কর্ণীলিয় এসে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত্ করলেন; আর উপুড় হয়ে পড়ে পিতরকে প্রণাম জানালেন৷
Verse 26: কিন্তু পিতর তাঁকে বললেন, ‘আহা, কি করছেন, উঠুন! আমি তো একজন সামান্য মানুষ মাত্র৷’
Verse 27: পিতর তাঁর সঙ্গে কথা বলতে বলতে ভেতরে গিয়ে দেখলেন, সেখানে বহুলোক এসে জড়ো হয়েছে৷
Verse 28: পিতর তাঁদের বললেন, ‘আপনারা জানেন, অন্য জাতের লোকের সঙ্গে মেলামেশা করা বা তাদের বাড়ি যাওয়া ইহুদীদের জন্য বিধি-সম্মত কাজ নয়; কিন্তু ঈশ্বর আমাকে দেখিয়ে দিয়েছেন য়ে, কোন মানুষকে ‘অশুচি’ বা ‘অপবিত্র’ বলা ঠিক নয়৷
Verse 29: তাই আমাকে ডেকে পাঠান হল, আর আমি বিনা আপত্তিতে চলে এলাম৷ এখন আমি জানতে চাই আপনারা কি কারণে আমায় ডেকে পাঠিয়েছেন৷’
Verse 30: কর্ণীলিয় বললেন, ‘চারদিন আগে এই সময় আমি আমার ঘরে বসে প্রার্থনা করছিলাম, বেলা তখন প্রায় তিনটে, সেই সময় হঠাত্ এক ব্যক্তি আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন, তাঁর গায়ে ছিল উজ্জ্বল পোশাক৷
Verse 31: তিনি বললেন, ‘কর্ণীলিয় তোমার প্রার্থনা গ্রাহ্য হয়েছে, আর তুমি গরীব দুঃখীদের য়ে সাহায্য কর তা-ও ঈশ্বর দেখেছেন৷ ঈশ্বর তোমাকে স্মরণ করেছেন;
Verse 32: তাই তুমি যাফোয় কিছু লোক পাঠাও এবং শিমোন যাকে পিতর বলে তাকে এখানে নিয়ে এস৷ সমুদ্রের ধারে শিমোন নামে য়ে চামড়ার ব্যবসাযী আছে, সে তার বাড়িতে আছে৷’
Verse 33: তাই আমি সঙ্গে সঙ্গে আপনার কাছে লোক পাঠালাম; আর আপনি বড় অনুগ্রহ করে এখানে এসেছেন৷ এখন আমরা সকলে এখানে ঈশ্বরের সামনে আছি; প্রভু আপনাকে য়ে সব কথা বলতে আদেশ করেছেন আমরা সকলে তা শুনব৷’
Verse 34: তখন পিতর বলতে শুরু করলেন, ‘এখন আমি সত্যি সত্যিই বুঝতে পেরেছি য়ে ঈশ্বর কারও প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেন না৷
Verse 35: প্রত্যেক জাতির মধ্যে য়ে কেউ ঈশ্বরের উপাসনা করে ও ন্যায় কাজ করে, ঈশ্বর এমন লোকদের গ্রহণ করেন৷
Verse 36: তিনি ইস্রায়েলের লোকদের কাছে তাঁর সুসমাচার পাঠিয়েছিলেন৷ তিনি সেই সুসমাচারে জানালেন য়ে যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমেই শান্তি লাভ হয়৷ তিনি সকলেরই প্রভু!
Verse 37: সমগ্র যিহূদাতে কি ঘটেছিল সে সব কথা আপনারা শুনেছেন৷ য়োহন বাপ্তাইজক লোকেদের কাছে বাপ্তিস্মের কথা প্রচার করার পর গালীলে এই ঘটনাগুলি শুরু হয়৷
Verse 38: আপনারা সেই নাসরতীয় যীশুর বিষয়ে শুনেছেন, শুনেছেন ঈশ্বর কিভাবে তাঁকে পবিত্র আত্মায় ও পরাক্রমের সঙ্গে অভিষেক করেছিলেন৷ যীশু সর্বত্র মানুষের মঙ্গল করে বেড়াতেন, আর যাঁরা দিয়াবলের কবলে পড়েছিল তাদের তিনি মুক্ত করতেন, কারণ ঈশ্বর তাঁর সঙ্গে ছিলেন৷
Verse 39: যিহূদা ও জেরুশালেমে যীশু যা কিছু করেছেন, আমরা তা স্বচক্ষে দেখেছি, আমরা তার সাক্ষী৷ তারা তাঁকে কাঠের তৈরী এক ক্রুশে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে;
Verse 40: কিন্তু ঈশ্বর তাঁকে মৃত্যুর তিন দিনের মাথায় জীবিত করেছেন৷ ঈশ্বর লোকদের কাছে যীশুকে জীবিতরূপে দেখালেন৷
Verse 41: কিন্তু তিনি সবাইকে দেখা দেন নি৷ ঈশ্বর পূর্বেই সাক্ষীরূপে যাদের মনোনীত করেছিলেন, কেবল তারাই তাঁকে দেখতে পেয়েছিলেন, আমরাই সেইসব সাক্ষী! মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত হবার পর আমরা যীশুর সঙ্গে পান-আহার করেছি;
Verse 42: আর তিনি আমাদের আদেশ দিলেন, য়েন আমরা লোকদের মাঝে প্রচার করি আর সাক্ষ্য দিই য়ে তিনিই সেই ব্যক্তি, যাকে ঈশ্বর সমস্ত জীবিত ও মৃত সকলের বিচারকর্তা করে মনোনীত করেছেন৷
Verse 43: য়ে কেউ যীশুকে বিশ্বাস করবে, সে পাপের ক্ষমা পাবে৷ যীশুর নামে ঈশ্বর সেইসব লোকেদের পাপ ক্ষমা করবেন৷ সমস্ত ভাববাদী বলে গেছেন য়ে এ সত্য৷’
Verse 44: পিতর যখন এইসব কথা বলছিলেন, তখন যাঁরা সেখানে সেইসব কথা শুনছিল, তাদের সকলের ওপর পবিত্র আত্মা নেমে এলেন৷
Verse 45: ইহুদী সম্প্রদায় থেকে য়ে খ্রীষ্ট বিশ্বাসীরা পিতরের সঙ্গে সেখানে এসেছিলেন তাঁরা সকলে আশ্চর্য হয়ে গেলেন, কারণ অইহুদীদের ওপরও পবিত্র আত্মার দান নেমে এল৷
Verse 46: কারণ তাঁরা ওদেরকে নানা ভাষায় কথা বলতে ও ঈশ্বরের প্রশংসা করতে শুনলেন৷
Verse 47: তখন পিতর বললেন, ‘কেউ কি এই লোকদের জলে বাপ্তাইজ করতে অস্বীকার করতে পারে? আমরা য়েমন পবিত্র আত্মা পেয়েছি তারাও তো তেমনি পেয়েছে!’
Verse 48: তখন তিনি যীশু খ্রীষ্টের নামে কর্ণীলিয়, তার পরিবারের লোকদের ও তাদের বন্ধুদের জলে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করতে আদেশ করলেন৷ এরপর তাঁরা পিতরকে তাঁদের সঙ্গে কিছু দিন থাকতে অনুরোধ করলেন৷