Verse 1: যীশু তাকিয়ে দেখলেন, ধনী লোকেরা মন্দিরের দানের বাক্সে তাদের দান রাখছে৷
Verse 2: এরই মাঝে একজন অতি গরীব বিধবা তাতে খুব ছোট্ট ছোট্ট তামার মুদ্রা রাখল৷
Verse 3: তখন যীশু বললেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি, এই গরীব বিধবা অন্য আর সকলের থেকে অনেক বেশী দান করল৷
Verse 4: আমি একথা বলছি কারণ অন্য আর সব লোক তাদের সম্পত্তির বাড়তি অংশ ঐ বাক্সে ফেলে গেল, কিন্তু এই বিধবার অভাব থাকা সত্ত্বেও জীবন ধারণের জন্য তার যা সম্বল ছিল, তাই দিয়ে গেল৷’
Verse 5: শিষ্যদের মধ্যে কেউ কেউ সেই মন্দিরের বিষয়ে এই মন্তব্য করলেন য়ে, ‘সুন্দর সুন্দর পাথর দিয়ে ও ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দানের জিনিস দিয়ে এই মন্দিরকে কেমন সাজানো হয়েছে!’
Verse 6: যীশু তাঁদের বললেন, ‘এই য়ে সব জিনিস তোমরা দেখছ, সময় আসবে যখন এর একটা পাথর আর একটার ওপর থাকবে না, সব ভেঙ্গে ফেলা হবে৷’
Verse 7: শিষ্যরা তখন যীশুকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘গুরু এসব কখন ঘটবে? আর কি চিহ্ন দেখে বোঝা যাবে এসব ঘটবার সময় এসে গেছে?’
Verse 8: যীশু বললেন, ‘সাবধান! কেউ য়েন তোমাদের না ভুলায়, কারণ অনেকেই আমার নাম ধারণ করে আসবে আর বলবে, ‘আমিই তিনি’ আর তারা বলবে, ‘সময় ঘনিয়ে এসেছে৷’ তাদের অনুসারী হযো না!
Verse 9: তোমরা যখন যুদ্ধ ও বিদ্রোহের কথা শুনতে পাবে, তাতে ভয় পেও না, কারণ প্রথমে নিশ্চয়ই এসব হবে; কিন্তু তখনও শেষ সময় আসতে বাকি!’
Verse 10: এরপর তিনি তাদের বললেন, ‘এক জাতি আর এক জাতির বিরুদ্ধে, এক রাজ্য আর এক রাজ্যের বিরুদ্ধে উঠবে৷
Verse 11: ‘মহা ভূমিকম্প হবে, বিভিন্ন জায়গায় দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দেখা দেবে; আর আকাশের বুকে ভযাবহ ঘটনা ও মহত্ চিহ্ন দেখতে পাবে৷
Verse 12: ‘কিন্তু এসব ঘটনা ঘটার আগে, তারা তোমাদের গ্রেপ্তার করবে, তোমাদের প্রতি নির্য়াতন করবে৷ তারা বিচারের জন্য তোমাদের সমাজ-গৃহে সঁপে দেবে ও তোমাদের কারাগারে ভরবে৷ আমারই কারণে তারা তোমাদের রাজাদের ও রাজ্যপালদের সামনে টেনে নিয়ে যাবে৷
Verse 13: তাতে আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দেবার জন্য তোমরা সুয়োগ পাবে৷
Verse 14: তোমরা মনের দিক থেকে তৈরী থেকো; আত্মপক্ষ সমর্থন করতে তখন কি বলবে, কি জবাবদিহি করবে তার জন্য চিন্তা করো না৷
Verse 15: কারণ সেই সময় আমি তোমাদের বুদ্ধি দেব, তোমাদের মুখে এমন কথা জোগাব য়ে তোমাদের বিপক্ষরা তা অস্বীকার করতে পারবে না আবার তার প্রতিরোধও করতে পারবে না৷
Verse 16: কিন্তু তোমাদের আপন বাবা-মা ভাইও আত্মীয় বন্ধুরাই তোমাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে তোমাদের ধরিয়ে দেবে; এমন কি তোমাদের কাউকে কাউকে মেরেও ফেলবে৷
Verse 17: আমারই কারণে তোমরা সকলের কাছে ঘৃণার পাত্র হবে৷
Verse 18: কিন্তু তোমাদের মাথায় একটা চুলও নষ্ট হবে না৷
Verse 19: তোমরা যদি বিশ্বাসে স্থির থাক, তবেই তোমাদের প্রাণ রক্ষা পাবে৷
Verse 20: ‘তোমরা যখন দেখবে য়ে সৈন্যসামন্তরা জেরুশালেমকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরেছে, তখন বুঝবে য়ে তার ধ্বংসের সময় ঘনিয়ে এসেছে৷
Verse 21: তখন যাঁরা যিহূদিযায় থাকবে তারা য়েন পালিয়ে যায়৷ যাঁরা জেরুশালেমে থাকবে তারা য়েন অবশ্যই নগর ছেড়ে পালায়; আর যাঁরা গ্রামে থাকবে তারা য়েন নগরে না আসে৷
Verse 22: কারণ এই দিনগুলো হচ্ছে শান্তির দিন, যা শাস্ত্রের বাণী অনুসারে পূর্ণ হবে৷
Verse 23: ঐ দিনগুলোতে যাদের প্রসবকাল ঘনিয়ে এসেছে ও যাদের কোলে দুধের বাচ্চা আছে, সেই সব স্ত্রীলোকদের ভয়ঙ্কর দুর্দশা হবে৷ আমি একথা বলছি কারণ দেশে মহাসংকট আসছে ও এই লোকদের ওপর ঈশ্বরের ক্রোধ নেমে আসছে৷
Verse 24: তরবারির আঘাতে তারা মারা পড়বে, আর তাদের বন্দী করে সকল জাতির কাছে নিয়ে যাওযা হবে৷ যতদিন না অইহুদীদের নিরুপিত সময় পূর্ণ হচ্ছে, জেরুশালেম অইহুদীদের দ্বারা অবজ্ঞা ভরে পদদলিত হবে৷
Verse 25: ‘তখন চাঁদে, সূর্য়ে ও তারাগুলিতে অনেক বিস্ময়কর জিনিস দেখা যাবে৷ পৃথিবীতে সমস্ত জাতি হতাশায় ভুগবে৷ তারা সমুদ্র গর্জন ও প্রচণ্ড ঢেউ দেখে বিহ্বল হয়ে পড়বে৷
Verse 26: পৃথিবীতে য়ে ভয়ঙ্কর অবস্থা আসছে তার কথা ভেবে ভয়েতে লোকে অজ্ঞান হয়ে যাবে, কারণ আকাশের সব শক্তিগুলি ওলোট-পালট হয়ে যাবে৷
Verse 27: এর পরই তারা মহাপরাক্রমে ও মহিমামণ্ডিত হয়ে মানবপুত্রকে মেঘে করে আসতে দেখবে৷
Verse 28: এসব ঘটনা ঘটতে দেখলে মাথা তুলে উঠে দাঁড়িও, কারণ জেনো য়ে তখন তোমাদের মুক্তি আসছে!’
Verse 29: এরপর যীশু তাদের একটি দৃষ্টান্ত দিলেন, ‘ডুমুর গাছ ও অন্যান্য গাছের দিকে দেখ৷
Verse 30: য়ে মুহূর্তে তাদের নতুন পাতা বের হয়, তা দেখে তোমরা বুঝতে পার য়ে গ্রীষ্মকাল এসে পড়ল বলে৷
Verse 31: ঠিক সেই রকম এই সব ঘটতে দেখলে তোমরা বুঝবে য়ে ঈশ্বরের রাজ্য এসে পড়েছে৷
Verse 32: ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি, যতক্ষণ না এসব ঘটছে, এই বংশ লোপ পাবে না৷
Verse 33: আকাশ ও পৃথিবীর লোপ পাবে, কিন্তু আমার বাক্য কখনও লোপ পাবে না৷
Verse 34: ‘তোমরা সতর্ক থেকো৷ উচ্ছৃঙ্খল আমোদ-প্রমোদে, মত্ততায়, জাগতিক ভাবনা চিন্তায় তোমাদের মন য়েন আচ্ছন্ন না হয়ে পড়ে, আর সেই দিন হঠাত্ ফাঁদের মতো তোমাদের ওপর এসে না পড়ে৷
Verse 35: বাস্তবিক, পৃথিবীর সব লোকের জন্যই সেই দিন আসবে৷
Verse 36: তাই সব সময় সজাগ থেকো, আর প্রার্থনা করো য়েন যাই ঘটুক না কেন তা কাটিয়ে উঠবার ও মানবপুত্রের সামনে দাঁড়াবার শক্তি তোমাদের থাকে৷’
Verse 37: তিনি মন্দিরের মধ্যে প্রতিদিন শিক্ষা দিতেন কিন্তু সন্ধ্যা হলে রাতে থাকার জন্য জৈতুন পর্বতে চলে য়েতেন৷
Verse 38: প্রতিদিন খুব ভোরে উঠে লোকেরা তাঁর কথা শোনার জন্য মন্দিরে য়েত৷