Verse 1: আমি সেই মানুষ যে অনেক দুঃখ কষ্ট দেখেছে| আমি তাকে দেখেছি যে আমাদের লাঠি দিয়ে মেরেছিল!
Verse 2: প্রভু আমাকে আলোয নয় অন্ধকারে নিয়ে এলেন|
Verse 3: প্রভু আমাকে সারা দিন ধরে তাঁর হাত দিয়ে মারধোর করেছেন| তিনি আমাকে বারবার মারলেন|
Verse 4: তিনি আমার চামড়া ও মাংস ছিঁড়ে ফেললেন| তিনি হাড়গোড় ভেঙ্গে দিলেন|
Verse 5: প্রভু আমার বিরুদ্ধে তিক্ততা ও সমস্যার পাহাড় তৈরী করলেন| তিনি আমার চারি দিকে তিক্ততার সমস্যাকে আনলেন|
Verse 6: যারা দীর্ঘসময় থেকে মৃত তাদের মতো তিনি আমাকে অন্ধকারে বসিযে রাখলেন|
Verse 7: তিনি আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখলেন| তাই আমি বেরোতে পারলাম না| ভারী চেন দিয়ে তিনি আমাকে বেঁধে রাখলেন|
Verse 8: এমনকি যখন আমি সাহায্যের জন্য চিত্কার করে কাঁদলাম প্রভু আমার সেই প্রার্থনায কর্ণপাত করেন নি|
Verse 9: তিনি ভাঙ্গা পাথর দিয়ে আমার বেরোনোর পথ বন্ধ করে দিয়েছেন| তিনি ঐ পথকে অাঁকাবাঁকা করে দিয়েছেন|
Verse 10: প্রভু যেন আমাকে আক্রমণ করতে উদ্যত এক ভাল্লুক| তিনি যেন গুহায লুকিয়ে থাকা এক সিংহ|
Verse 11: প্রভু আমাকে আমার পথের বাইরে চালনা করলেন| তিনি আমাকে খণ্ড খণ্ড করে ছিঁড়ে ধ্বংস করলেন|
Verse 12: তিনি তাঁর ধনুক প্রস্তুত করে রাখলেন| আমি তাঁর তীরের লক্ষ্য বস্তু হলাম|
Verse 13: আমার পাকস্থলীতে তিনি আঘাত করলেন| তিনি তাঁর তূনীর থেকে একটি তীর ব্যবহার করে আমাকে বিদ্ধ করলেন|
Verse 14: লোকের কাছে আজ আমি উপহাসের পাত্র| সারাদিন ধরে আমার সম্পর্কে গান গেযে গেযে তারা আমায় উপহাস করে|
Verse 15: এই বিষ (শাস্তি) প্রভুই আমায় পান করতে দিয়েছেন| তিনি এই তিক্ত পানীয় দিয়ে আমায় পূর্ণ করেছেন|
Verse 16: তিনি আমায় কাঁকর খেতে বাধ্য করলেন| তিনি আমায় নোংরায় ফেলে দিলেন|
Verse 17: আমি ভাবলাম আর কখনও শান্তি পাবো না| সমস্ত ভালো জিনিসের ভাবনা ভুললাম|
Verse 18: নিজে নিজে বললাম, “প্রভুর সাহায্যের প্রত্যাশা আর নেই|”
Verse 19: আমার যন্ত্রণা এবং আমার উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘুরে বেড়ানো মনে রাখবেন| যে শাস্তি আপনি আমায় দিয়েছিলেন তা মনে রাখবেন|
Verse 20: সব দুঃখ কষ্টের কথা আমার ভালো ভাবেই মনে আছে এবং আমি খুবই বিষন্ন|
Verse 21: কিন্তু ঠিক তক্ষুনি, আমি অন্য কিছু ভাবি| যখন আমি এরকম করে ভাবি, আমি কিছু আশা দেখতে পাই| আমার ভাবনাগুলি হল এইরকম:
Verse 22: প্রভুর করুণা ও ভালোবাসা অসীম| তাঁর দয়ার কোন শেষ নেই|
Verse 23: প্রতিটি প্রভাতে নতুন নতুন ভাবে আপনি এটা প্রদর্শন করেন! আপনি খুব নির্ভরয়োগ্য এবং বিশ্বস্ত!
Verse 24: আমি মনে মনে বললাম, “আমি যা চাই তা হল, প্রভু| তাঁর ওপর আমার আস্থা আছে|”
Verse 25: যে সব লোকরা প্রভুর জন্য অপেক্ষা করে, প্রভু তাদের প্রতি সদয হন| প্রভুর কাছে যারা সাহায্য চায় তাদের প্রতি প্রভু সদয|
Verse 26: নিজেকে রক্ষা করবার সব চেয়ে ভাল উপায় হল শান্ত ভাবে প্রভুর অপেক্ষায থাকা|
Verse 27: কোন ব্যক্তির পক্ষে ছোট বেলা থেকেই য়োযাল বহন করা ভালো|
Verse 28: প্রভু যখন তাঁর য়োযাল বা বাঁক কোন ব্যক্তির ওপর রাখেন তখন শান্ত ভাবে একাকী তার বসে থাকা উচিত|
Verse 29: উদ্ধার পাবার আশায় তাকে তার মুখ আভূমি নত করতে হবে|
Verse 30: ওই লোকটির গাল বাড়িয়ে চড় খাওয়া উচিত| ওই ব্যক্তির উচিত অন্যদের তাকে অপমান করতে দেওয়া|
Verse 31: ওই ব্যক্তির মনে রাখা উচিত যে প্রভু কাউকেই চির কালের জন্য পরিত্যাগ করেন না|
Verse 32: প্রভু যখন শাস্তি দেন তখন তিনি ক্ষমাও করেন| এই ক্ষমা তাঁর গভীরে ভালবাসা আর করুণা থেকেই আসে|
Verse 33: প্রভু কাউকে শাস্তি দিতে চান না| লোকরা অশান্তিতে থাকুক এটাও তিনি চান না|
Verse 34: প্রভু এইগুলি পছন্দ করেন না: তিনি দেশের সব বন্দীদের তাঁর পায়ের তলায় পিষে ফেলতে চান না| তিনি কাউকে পেষণ করতে চান না|
Verse 35: এক জন অন্যের প্রতি অন্যায় করুক এটা তিনি কখনও চান না| কিন্তু কিছু মানুষ সব সময়ই পরাত্পরের সামনে এরকম কাজ করে|
Verse 36: এক জন ব্যক্তি আর এক জনকে আদালতে প্রতারণা করুক এটা প্রভু একেবারে পছন্দ করেন না|
Verse 37: কোন লোকেরই কিছু বলা এবং সেটা ঘটানো উচিত নয় যতক্ষণ না প্রভু তা ঘটানোর আদেশ দেন|
Verse 38: পরাত্পর ভালো ও মন্দ দুইই ঘটাতে আজ্ঞা দেন|
Verse 39: যখন কাউকে পাপের জন্য প্রভু শাস্তি দেন, তখন সে জীবিত অবস্থায় অভিযোগ জানাতে পারে না|
Verse 40: এসো, আমরা কি করেছি তা সতর্কভাবে পরীক্ষা করি| তারপর আমরা প্রভুতে আশ্রয় নেব|
Verse 41: স্বর্গের ঈশ্বরের প্রতি হৃদয় এবং আমাদের হাত উত্তোলন করা উচিত্|
Verse 42: এসো তাঁর উদ্দেশ্যে বলি, “আমরা পাপ করেছি এবং আমরা অবাধ্য হয়েছিলাম| আপনি আমাদের ক্ষমা করেননি|”
Verse 43: আপনি আমাদের রোধ দিয়ে মুড়ে দিয়েছেন এবং আমাদের তাড়িয়ে দিয়েছেন| কোন রকম ক্ষমা না করেই হত্যা করেছেন!
Verse 44: মেঘের আচরণে আপনি নিজেকে ঢেকেছেন| এর কারণ, যাতে কোন প্রার্থনাই মেঘের মধ্যে দিয়ে যেতে না পারে|
Verse 45: অন্য জাতিদের কাছে আপনি আমাদের আবর্জনা ও ময়লার মতো সৃষ্টি করেছেন|
Verse 46: আমাদের সমস্ত শএুরা আমাদের ঠাট্টা করেছে|
Verse 47: আমরা ভয় পেয়েছি| গভীর গর্তে পড়ে আমরা দারুণ আঘাত পেয়েছি| আমাদের সব কিছু ভেঙ্গেছে|
Verse 48: আমার চোখ বেয়ে জলের স্রোত নেমেছে! আমি আমার লোকদের ধ্বংসের জন্য কেঁদেছি!
Verse 49: যতক্ষণ পর্য়ন্ত না প্রভু স্বর্গ থেকে নীচে দেখেন ততক্ষণ
Verse 50: অবিশ্রান্ত ভাবে আমার চোখের জল বয়ে যাবে!
Verse 51: আমার দুটি চোখ আমায় বিমর্ষ করে তোলে যখন আমি আমার শহরের ছোট ছোট মেয়েদের দুর্দশা দেখি|
Verse 52: ওই মানুষগুলো অকারণে আমার শএু| আমার শএুরা আমাকে বিনা কারণে পাখির মতো শিকার করেছে|
Verse 53: তারা আমায় গভীর গর্তে নিক্ষেপ করেছে| আমি জীবিত আছি জেনেও আমার দিকে পাথর ছুঁড়ছে|
Verse 54: জল আমার মাথা ছাপিযে গেল| আমি মনে মনে বললাম, “আমি শেষ|”
Verse 55: প্রভু, আমি গর্তের তলা থেকে আপনাকে ডেকেছি| আপনার নাম ধরে চিত্কার করে ডেকেছি|
Verse 56: আমার কণ্ঠস্বর শুনুন| আপনার কান বন্ধ করে রাখবেন না| আমাকে উদ্ধার করতে অস্বীকার করবেন না|
Verse 57: আমি যখন আপনার কাছে মিনতি করব তখন আমার কাছে আসবেন! আমাকে বলবেন, “ভয় পেও না|”
Verse 58: প্রভু আমার আবেদনটা বিচার করুন| আমাকে আমার জীবন ফিরিয়ে দিন|
Verse 59: প্রভু, আমার দুর্দশা দেখুন| আমায় ন্যায় পেতে সাহায্য করুন|
Verse 60: আমার শএুরা কি ভাবে আমাকে আঘাত করেছে তা দেখুন| আমার বিরুদ্ধে ওদের সমস্ত শযতানি পরিকল্পনাগুলি সম্পর্কে আপনি অবহিত|
Verse 61: প্রভু, ওরা কি ভাবে আমাকে অপমান করেছে তা শুনুন| আমার বিরুদ্ধে ওদের সমস্ত শযতানি পরিকল্পনার কথা শুনুন|
Verse 62: শএুদের কথা এবং তাদের সমস্ত পরিকল্পনা সব সময়ই আমার বিরুদ্ধে|
Verse 63: যখন ওরা বসে কিংবা দাঁড়ায তখনও আমায় নিয়ে ওরা কি ভাবে মজা করে তাও দেখুন, প্রভু!
Verse 64: প্রভু, ওরা যা করেছে তার জন্য ওদের প্রাপ্য শাস্তি দিন!
Verse 65: ওদের হৃদয়কে অনমনীয করে দিন! তারপর আপনার অভিশাপ ওদের উপর বর্ষণ করুন!
Verse 66: রোধ তাদের তাড়া করুন! আপনার আকাশের নীচে তাদের ধ্বংস করুন প্রভু!